জিন্নাত আলীর মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন

দেশের সবচাইতে লম্বা মানুষ (সাড়ে সাত ফুট) জিন্নাত আলীর মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। ৪ নভেম্বর রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের ডা. মিল্টন হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অতিরিক্ত দৈহিক উচ্চতায় আক্রান্ত রোগীর বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল্লাহ আল হারুন, নিউরোসার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ টি এম মোশাররফ হোসেন, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ ফরিদ উদ্দিন, চীফ এস্টেট অফিসার ডা. এ কে এম শরীফুল ইসলাম, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহাজাদা সেলিম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, রোগী মোঃ জিন্নাত আলীর মস্তিষ্কের টিউমার রয়েছে, এই টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার লাগবে। রোগী চাইলে আগামী সপ্তাহেই অস্ত্রোপচার করা হবে। তবে এ জন্য তিনি এখনো রাজি হয়নি। তাঁকে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে।

সাত ফুট ৬ ইঞ্চি বা সাড়ে সাত ফুট উচ্চতার ২২ বছর বয়সী রোগী জিন্নাত আলী সম্পর্কে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইওনালজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার রামু উপজেলার বাসিন্দা মোঃ আমির হামজা ও শাহ পরী বেগমের তৃতীয় সন্তান মোঃ জিন্নাত আলী। তার বর্তমান বয়স ২২ বছর। সে তার ১২ বছর বয়স পর্যন্ত অন্যান্য বাচ্চাদের মতই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু ১২ বছর বয়সে তার মাতা পিতা লক্ষ্য করল যে তার সমবয়সী বাচ্চাদের, এমন কি তার বড় ভাইদের তুলনায় সে লম্বায় বেড়ে উঠছিল। এই সমস্যা নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে গেলে তাকে বিএসএমএমইউতে রেফার করা হয়। প্রায় ৫ বছর আগে মোঃ জিন্নাত আলী প্রফেসর মোঃ ফরিদ উদ্দিন এর অধীনে এন্ডোক্রাইনোলজী বিভাগে ভর্তি হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তার মস্তিস্কে এক ধরনের টিউমার পাওয়া যায়, যা তার বেড়ে উঠার কারণ। ওই সময় তাকে অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি অপারেশন করাতে অসম্মতি জানান এবং হাসপাতাল থেকে চলে যায়। ইতিমধ্যে তার সমস্যা বিভিন্ন পরিসরে বাড়তে থাকে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মোঃ জিন্নাত আলী ডান পায়ে ব্যথা ও ফোলা নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং সেখানকার ডাক্তার তার পায়ের সমস্যাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়। এতে তার আংশিক উন্নতি হয়। ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব মোঃ নাসিম এমপি মহোদয়ের নজরে আসলে তাকে চিকিৎসার আশ্বাস দেয়া হয় এবং গত ২২ অক্টোবর ২০১৮ইং তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর তার রোগের বৃত্তান্ত নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে তার বিভিন্ন সমস্যা ধরা পড়ে। যেমন- ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডিমিয়া, অস্টিওআথ্রাইটিস এবং সেলুলেটিস অব রাইট লেগ। তার মূল সমস্যা হল Acrogigantism যা মস্তিস্কের পিটিওটারী টিউমারের জন্য হয়। এখন তাঁর অপারেশন এবং অপারেশন পরবর্তী চিকিৎসা প্রয়োজন।

Related posts

Leave a Comment