জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে প্রথম দেশ হবে অস্ট্রেলিয়া!

চলমান টিকা ও স্ক্রিনিং টেস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বিশ্বে প্রথম জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলকারী দেশ হবে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত এই রোগ আগামী ২০ বছরের মধ্যে ‘নিশ্চিহ্ন’ হবে। বুধবার চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২২ সালের মধ্যেই রোগটি অস্ট্রেলিয়ায় ‘দুর্লভ ক্যান্সার’ হিসেবে মূল্যায়িত হবে। এ সময় লাখে ছয়জনেরও কম নারী এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমানে আক্রান্তের হার লাখে সাতজন। ২০৩৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা চারে নামতে পারে। চলমান প্রতিরোধ কর্মসূচির অগ্রগতি থেকে বিজ্ঞানীরা এ ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এখনো এমন কোনো মানদণ্ড প্রকাশ করেনি, যখন ওই রোগ ‘নির্মূল’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসেবে যৌনবাহিত সংক্রমণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসকে (এইচপিভি) দায়ী করা হয়ে থাকে। এ ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৯৯.৭ শতাংশ নারীই ওই ভাইরাসের কারণে সংক্রমিত হয়। এর বাইরে অল্প বয়সে বিয়ে, ঘন ঘন সন্তান নেওয়া, অপরিচ্ছন্নতা ও অপুষ্টির মতো বিষয় এ রোগের জন্য দায়ী বলে বিবেচিত।

২০০৭ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া তার দেশের মেয়েদের এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু করে। পরবর্তীকালে এ কর্মসূচির আওতায় ছেলেদেরও আনা হয়। এটি মূলত ১৯৯১ সালে চালু হওয়া জাতীয় জরায়ুমুখ ক্যান্সার পরীক্ষা কর্মসূচির পরিপূরক হিসেবে যাত্রা করে। প্রতিরোধ কর্মসূচিকে গত বছর আরো উন্নত করা হয়েছে। এইচপিভি পরীক্ষায় আরো সংবেদনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর ফলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্তের হার অন্তত ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে।

ডাব্লিউএইচওর হিসাবে, নারীরা যেসব ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয়, সেই তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার। বৈশ্বিকভাবে ওই ক্যান্সারে উচ্চ মৃত্যুহার পরিলক্ষিত হয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই মারা যায়।

ক্যান্সার কাউন্সিল নিউ সাউথ ওয়েলসের গবেষক ড. মেগান স্মিথ বলেন, শক্তিশালী প্রতিরোধ কর্মসূচির কারণে সম্ভবত জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্তের হারে সর্বনিম্ন হবে অস্ট্রেলিয়া। সূত্র : বিবিসি।

Related posts

Leave a Comment