রোগীকথন

ডা. নাছিমন নাহার মিম্ মি :

আউটডোরে রোগী দেখছি। অনেকদিন পরে হাসপাতালে কাজ করছি বলে ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড এক্সসাইটেড আমি।

রোগীর দেখার ফাঁকেই শুনলাম বাইরে কাউন্টারে একজন নার্সকে বলছেন — বেডি ডাক্তার দেখাইতাম না। বেডা দাক্তুর নাইক্যা আইজগ্যা?

আমার মেইল কলিগ সে সময়ে অনকলে ইনডোরে গিয়েছেন। আউটডোরে আমি একাই ছিলাম।

সিরিয়ালে তখন ৬৪ নম্বর রোগী চলছে।

থাই গ্লাস সরিয়ে রোগী এক ঝলক আমাকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে আবার বলতে শুরু করল —- এইডা তো অল্প বয়স্কা বেডি দাক্তুর। দেখাইতাম না হেরে।

রাগ উঠলেও একটুশখানি পলক দিলাম রোগীর পানে। দেখলাম বয়স পযত্রিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে একজন যুবক দাঁড়ানো দরজা ধরে। আমি ডায়াবেটিসের রোগী দেখি। এর সাথে বয়সের সমস্যা কি বুঝলাম না।

হালকা স্বরে বললাম—– বাবা ডাক্তার স্যারের তো আসতে দেরী হবে। আমাকে না দেখালে আপনাকে আগামীকাল আসতে হবে যে।

কি যেন ভাবল রোগী তারপর ঢুকল ভেতরে। বসতে বলে জিজ্ঞেস করলাম সমস্যা কি?

রোগী হাত দিয়ে ইশারায় সাথে থাকা লোককে দেখিয়ে বলল হেতে আমার দোস্ত। হে কবেনে।

আমি—-আচ্ছা বলুন কি হয়েছে ওনার?

রোগীর লোক—হেতে ছেক্সের বড়ি খাইছে। তারপর থাইক্যা মাথা বুক প্যাট শরীর গরম। খাইত পারে না ঘুমাত পারে না। আপনে এর একটা বিহিত করেন।

‘ছেক্স’ যে আসলে ‘সেক্স’ এটা বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগলো আমার। তারপর যতখানি সম্ভব চেহারাতে ভাব গাম্ভীর্য বজায় রেখে বললাম—- কেন খেয়েছেন? কোন সমস্যা?

রোগী তখন অনেকটা সহজ হয়েছে আমার সামনে। নিজেই বলল— আর বইলেন না ম্যাঠাম আমি থাকি সৌদি। তিন সপ্তার ছুটিতে বাড়িত আইছি। ভাবছি কামডা কইরাই যাই। হের লাইগ্যাই তো।

আমি অত্যন্ত চিন্তিত গলার স্বরে বললাম —- কামডা মানে কি বাবা ?

(আমি কিন্তু বুঝেছি। আপনারা বুঝতে পেরেছেন তো পাঠক? যেহেতু রোগী আমাকে বলেছিল অল্প বয়ষ্ক বেডি দাক্তুর তাই প্রতিশোধ নিতে রোগীর মুখ থেকে শুনতে চাচ্ছিলাম কামাডা আসলে কি জিনিস)

রোগী—– আরে বুঝলেন না? পোলাপাইন দরকার। হেইডার লাগি কাম বৌর লগে।

আমি—– ও আচ্ছা। তারপর বলেন কি ওষুধ খেয়েছিলেন?

রোগী— নাম কইতে পারুম না। ফার্মেসীর দাক্তুর সাব দিছিল। হের পর থাইক্যা আমার সারা শরীল জ্বলতেছে। সব কিছু গন্ডগোল হইতেছে। বুঝছেন না আফনে?

আমি— জ্বী বোঝার চেষ্টা করছি বাবা।

রোগী — ভালো মেডিসিন লিইখ্যা দ্যান। টেকা পয়সা ব্যাপার না। শরীলডা যেন ঠান্ডা হয়।

প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে বললাম — জ্বী অবশ্যই এই এই ওষুধ এই এইভাবে খাবেন। আর প্রচুর সময় দিবেন আপনার স্ত্রীকে। বেশি বেশি মেলামেশা করবেন নিজের স্ত্রীর সাথে।
দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

এত মজার মজার রোগীরা আছেন বলেই ডাক্তারী জীবনটা একটুও বোরিং লাগে না।

#মিম্ মি

Related posts

Leave a Comment