কর্তব্যপরায়ণ…

ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু :

আমার অফিস সময় শেষ হয়ে গেছে আধঘন্টা আগেই । তখনও অফিস ছেড়ে পুরোপুরি বের হইনি । হাসপাতালে একটি এম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখে এগিয়ে গেলাম ।
আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী একজন প্রৌঢ়কে নামানো হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স থেকে । বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-এর অ্যাম্বুলেন্স । কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না-করে দাড়িওয়ালা প্রৌঢ় ব্যক্তিটিকে পরীক্ষা করা শুরু করলাম । Glasgow Coma Scale-এর মাত্রা ছয় হবে ৷ গলবিলে (Oropharynx) ফেনা জমছে । তার হাত পায়ে মোচড়ানো শুরু হয়ে গেছে । পিউপিলদ্বয় সংকুচিত হয়ে আছে ।

ভদ্রলোককে যে কয়েকজন তরুণ নিয়ে এসেছিলেন, তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আর কোন Comorbidity আছে কি না ? যেমন ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার, হার্ট ডিজিজ ? তরুন, বললেন, “সবগুলোই আছে” ৷

বুঝলাম, এটা স্ট্রোক (খুব সম্ভব মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ) । তাকে দ্রুত নিকটস্থ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলাম । বার বার বলে দিলাম, প্রৌঢ় লোকটিকে যেন কাত করে রাখা হয় ৷ তা না-হলে মুখের ফেনা ইউ-টার্ণ করে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে Aspiration pneumonia হয়ে যাবে ৷

ততক্ষণে খয়েরী রঙের একটি পাজেরো জিপ প্রবেশ করল । বিজিবি’র কমাণ্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল….. গাড়ী থেকে নেমে আমার দিকে এগিয়ে আসলেন ৷ কোন প্রশ্নের অপেক্ষা না-করেই আমি বললাম, It’s brain stroke, most probably intracranial hemorrhage. Needs immediate hospitalization, in a medical college hospital where emergency neurosurgical care are available.

লে. কর্ণেল সাহেব তার সহকর্মী সৈনিকদের জিজ্ঞেস করলেন, “আমাদের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার কোথায় ?” জবাব এল, “তিনি এখনও আসেননি ৷ পোষাক পরছেন ।”

লে কর্ণেল সাহেব কোন কথা না বলে ড্রাইভিং সিটে বসে অ্যাম্বুলেন্স স্টার্ট দিলেন ৷ ড্রাইভারের অনুপস্থিতিতে তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এগিয়ে চললেন ৷
………………….

এমন কমাণ্ডিং অফিসার লে কর্নেল….এঁরাই আসল নেতা ৷ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম । এঁদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়, অ্যাপ্রিশিয়েট করতে হয় ৷ এঁদের কাছ থেকে কর্তব্যপরায়ণতা এবং দায়িত্ববোধ শিখতে হয় ৷
……………………

স্থানঃ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (সরকারী হাসপাতাল)।
কালঃ ২৯/সেপ্টেম্বর/২০১৮, বিকাল ৩ টা ।

Related posts

Leave a Comment