আমার এখন স্বামীর দরকার

ডা. মো. সাঈদ এনাম

‘আচ্ছা স্যার আপনি বলেন। আমি যুবতী মেয়ে। বিয়ে হয়েছে বেশিদিন হয়নি, এখন আমার জামাই আমাকে এই ভাবে রেখে বিদেশ চলে গেলো। এইটা একটা কথা হলো। ছেলেটার কি কোন কান্ড জ্ঞান নাই। এভাবে সুন্দরী যুবতি বউ রেখে কেউ যায়। এখন আমি কি করব। রাতে আমার ঘুম হয়না, সারা রাত উঠবস করি। মাথা কিলবিল করে। কখনো কখনো বেরিয়ে যাই। স্বামী কে খুঁজে আনতে। খুঁজতে যাই। আচ্ছা আপনি বলেন, আমি যুবতী আমার স্বামী আছে। আমিতো আমার স্বামী কে খুঁজতে যাবোই। এতে কি অন্যায়। সে আমাকে কত্ত আদর করে। অথচ এরা আমাকে বেঁধে রাখে ঘরের ভিতর। স্বামীর কাছে যেতে দেয়না। স্বামীর সাথে থাকতে দেয় না। পাষাণ, এগুলা সব পাষাণ’

‘ঠিকইতো তুমি তোমার স্বামীর কাছে যাবা, তার সাথে ঘুরবা, বেড়াবা। কই তোমার স্বামী?’, আমি মেয়েটিকে জিগ্যেস করলাম।

‘আমার স্বামী বিদেশ চলে গেছেন। বোদাই একটা। গত মাসের শেষ শুক্রবারে উনার ফ্লাইট ছিলো। সকালের ফ্লাইটেই চলে গেছেন। ইস জানেন, যাবার রাতে আমি আর আমার স্বামী কত্ত মজা করসি। আপনি বুঝছেন তো? অনেক মজা। হি হি হি। আমি না উনার গলা চেপে ধরছিলাম। উনি ক্লান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে বিছানা থেকে পড়ে গেছিলেন। পরে এক বদনা পানি ঢালছি মুখে। তার পর জ্ঞান ফিরছে। পরে না, আবার গলা টিপে ধরছি। কি বলবো, ভয়ে শেষমেশ আমার পায়ে ধরছে উনি। হি হি হি। স্যার আপনি লজ্জা পাচ্ছেন। লজ্জা কি স্যার। এসবে আবার লজ্জা কি। দেখেন দেখেন আমার আব্বা লজ্জা পাচ্ছে। এই আব্বা তুমি লজ্জা পাচ্ছো কেনো। তুমি কি আম্মাকে আদর করোনা? হি হি হি…..’, মেয়েটি সাথে আসা তার বাবার দিকে ইংগিত করলো।

‘আচ্ছা বুঝলাম। শোন আমরা এসব না, অন্য গল্প করি। তোমরা ক’ভাই বোন?’

‘আমরা? আমরা ক’ভাই বোন জানি। দাড়ান আব্বাকে জিগ্যেস করি। আব্বা আমরা ক’ভাই বোন?’

‘কেনো তুমিই বলো, তোমরা ক’ভাই বোন’

‘আমি বলবো?’

‘হ্যা’

‘একটা শর্ত আছে’

‘কি?’

‘আমার স্বামীকে এনে দিবেন? আমার এখন স্বামীর দরকার। আমার উনার কাছে যেতে ইচ্ছে করছে। খুব ইচ্ছে করছে। এক মাস হয়ে গেছে, উনার কাছে যাইনা। উনাকে ছাড়া একটা মুহুর্ত আমার কাছে অনেক বছরের মতো লাগে। তাছাড়া আমি যুবতি। বুঝেন না? মানবেন শর্তটি?’

‘তোমার স্বামী না বিদেশে বললে?’

‘হ্যা কিন্তু চলে এসেছে। ওরা আটকে রেখেছে। ওরা আমাকে যেতে দেয়না। উনাকেও আসতে দেয়না। কি যে করি। আমার যে আর সয়না। আপনি দেবেন আমার স্বামী কে এনে, উনাকে আমার খুব দরকার’

‘ঠিক আছে আমি তোমার আব্বা আম্মা শ্বশুর শাশুড়ি সবার সাথে আলাপ করবো। আবশ্যই দেখবো বিষয়টি। এটা অন্যায়। কেনো তারা আটকে রাখলেন। তবে তার আগে আমার প্রশ্ন গুলোর উত্তর দাও’

‘ক’ভাই বোন? কি নাম তোমার?’

‘আমরা এগারো ভাই বোন। আমি সবার ছোট। আর আমার নাম মিস ক্যাটরিনা। হলো। এবার আমার স্বামীকে এনে দেন’

‘তুমি সবার ছোট। গুড ভেরি গুড। ছোটরা খুব বুদ্ধিমান হয়। তুমিও খুব বুদ্ধিমান। তবে তোমার নাম ক্যাটরিনা না’

‘হি হি হি স্যার। আমি বুদ্ধিমান না। আমি বুদ্ধিমতী। আপনিও ভুল করলেন’

‘এবার আমি হাসলাম। তাইতো ভুল হয়ে গেলো।’

‘কিন্তু স্যার, আমি কেবল বুদ্ধিমতী নই। আমি কিন্তু খুবই সুন্দরী। এই দেখেন। আমার মতো ফর্সা, লম্বা আর এরকম ফিগার। আমাকে সবাই ক্যাটরিনা সামাদ বলে। সামাদ আমার বাবার নাম। দেখেন দেখেন কেমন দুধে আলতা রং আমার, আর কি নরম তুল তুলে। হাত দিয়ে দেখেন। জানেন বাসর রাতে আমাকে দেখে উনার কি হয়েছিলো? উনি পাঁচ বার অজ্ঞান হয়ে গেছে। হি হি হি…। প্রতিবার আমি এক বদনা পানি ঢালছি মুখে। আর নাকটা দিছি টিপে। কালো লম্বা, ইয়া মোটা নাক। হাতির মতো। নাক টিপে জ্ঞান ফিরাইছি, তারপর আবার আমাকে দেখে অজ্ঞান হইসে। আমার মতো সুন্দর নাকি উনি কম দেখছে, হে হে হে.., এটা একটা কথা হইলো? শয়তানের মতো কথা না…?’।

‘এই, এই মনি। মা তুই চুপ করবি। তানা হলে এবার কিন্তু থাপ্পড় দেবো, সত্যি সত্যি মুখ সেলাই করে ফেলবো। মুখে কাপড় গুজে দিবো কালকের মতন। নির্লজ্জ বেহায়া’, এতোক্ষন চুপ করে থাকা বাবা আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।

মেয়েটির বাবাকে বললাম, ‘আপনি শান্ত হোন। একটু বাইরে বসুন’। তিনি বাইরে গেলেন না। বললেন,
‘ডাক্তার সাহেব, ওকে চেনেন না। বজ্জাৎ মেয়ে। শুধুই খারাপ খারাপ কথা বলে। আমরা আর পারছিনা ওকে নিয়ে। মান সম্মান সব শেষ। কাল রাতে কি করছে জানেন? রাত তিন টার সময় চলে গেছে কলেজে, যেখানে সে পড়তো। সেই দশমাইল পথ হেটে গেছে, ঘরের দরজা ভেংগে। দারোয়ান কলেজে ঢুকতে দেয়নি। বাহিরের টং ঘরে আটকে রেখেছে। পুলিশ ডেকেছে। থানার ওসি আমার বন্ধু। সে পরে আমাদের খবর দিয়েছে। আমরা নিয়ে এসেছি’।

‘ওর স্বামী যে বিদেশ থাকে বললো!’

‘না, ডাক্তার সাহেব। উল্টো পাল্টা বকে। ওর ডিভোর্স হয়েছে এক মাস আগে। ওর স্বামীই ডিভোর্স দিয়েছে। আমরাও কথা বাড়াই নি। দেবে না কেনো বলুন? স্বামীকে গলা টিপে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো বিয়ের দুদিনের মাথায়’

‘ভালো করেছি। ও একটা শয়তান। আমাকে রেখে সে তার খালাতো বোনের সাথে ফষ্টিনষ্টি করতে গেলো কেনো সে রাতে। খালাতো বোনের সাথে প্রেম…? বদমাশ, প্রেম যখন ছিলো তখন আমাকে বিয়ে করলি কেনো’, মেয়ের কন্ঠে ঝাঁজ।

‘চুপকর বেয়াদব মেয়ে। খালি উল্টো পালটা বকে’। কত ভালো পরিবারে বিয়ে দিয়েছিলাম। কত ভালো ছেলে’, বাবা আবার ধমক দিলেন।

‘ভালো ছেলে, ভালো ছেলে, হা হা হা স্যার ও নাকি ভালো ছেলে’, মেয়েটি জোরে হাসলো।

‘ঠিক আছে সমস্যা নেই। আপনি বাহিরে গিয়ে বসেন। আমি একটু আলাপ করি ওর সাথে। সমস্যা হবেনা। বসুন গিয়ে’। আমি তার বাবাকে বাইরে পাঠালাম।

‘স্যার,আমি দেখতে সুন্দর না?’

‘হ্যা অফকোর্স’

ক্যাটরিনা কাইফের মতোনা?

‘ওমম..হ্যা। কিছুটা’

স্যার জানেন, ‘আমাকে সবাই ক্যাটরিনা ডাকতো কলেজে। মাস্টার্সে থাকতে আমাদের কলেজের একজন স্যার আমাকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিসিএস পাস করে তিনি নতুন এসেছিলেন। আমি রাজী ছিলাম। বাবা মাই রাজী হন নি’। বললেন, ‘কলেজের শিক্ষকতা করেন, নতুন চাকুরী, কি আর মাইনে। মেয়ের যেমন চাল চলন। পারবেনা সামলাতে’। ‘আসলে স্যার আমিতো সবার ছোট তাই একটু বেশি খরচ টরচ করতাম’

‘আচ্ছা তোমার স্বামীর ব্যাপার টা বলতো’

‘একবার বললে স্বামী বিদেশে, আবার বললে স্বামীর কাছে যাবে, স্বামীকে সবাই আটকে রেখেছেন। আবার বলে কি সব সম্পর্ক। আবার তোমার বাবা বললেন, তুমি নাকি রাত বিরাতে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে যাও স্বামীর কাছে? কি? বুঝলাম না কিছুই।

মেয়েটি চুপ করে বসে রইলো। মাথা নিচু করে।

‘হ্যালো। কি ব্যাপার বলছো না যে কিছুই’। ‘স্বামীর কথা বলো’।

‘জানিনা স্যার। মাঝে মাঝে আমার কি হয় আমি কিছুই জানিনা। ভুলে যাই সব। কি নাকি আজে বাজে বলি, আমার স্বামী কে নাকি মেরে ফেলেছি গলা টিপে’

‘তুমি কি সত্যি গলা টিপে মেরে ফেলছিলে স্বামীকে?’

‘না স্যার, জানিনা’

‘কি হয়েছিলো সে রাতে? খালাতো বোনের সাথি কি সব সম্পর্ক নাকি বলছিলে?’

মেয়েটির চোখ স্থির হয়ে যায়। চোয়াল শক্ত করে বড় বড় করে তাকায় আমার দিকে। আমি ইশারায় এলার্ট করি চেম্বার এটেন্ডদের কে। একবার এক বাইপোলার পেশেন্ট এর রোগী হাসপাতালে একজন নার্স কে মেরে ফেলেছিলো। একেবারে স্পট ডেড। এজন্য কিছু কিছু ম্যানিক সাইকিয়াট্রিক পেশেন্ট কে খুব সাবধানে ডিল করতে হয়। বিদেশে সাইকিয়াট্রিস্ট দের সাথে পিস্তল বা গানম্যান রাখার প্রচলন আছে। গত কিছু দিন আগে ও চেম্বারে আসা এক সিজোফ্রেনিয়ার রোগী ইমপালসিভ হয়ে তার মাকে চোখ বরাবর এমন এক ঘুষি মেরেছে, এক চোখ প্রায় নস্ট করে ফেলেছে। মা কেঁদে কেঁদে আমাকে চোখ দেখালেন।

মেয়েটি স্থীর হয়ে আমার দিকে তাকিয়েই রলো। কিছু বললো না।

আমি আবার বললাম, ‘কি হয়েছিলো বলো সে রাতে। আমি সত্যটা জানতে চাই’

‘আমি কি পাগল?’ সে প্রশ্ন করলো।

‘না’

‘তাহলে সবাই আমাকে পাগল বলে কেনো, আমকে বেঁধে রাখে কেনো?’

‘তুমি যে সবাই কে মারতে যাও, রাত বিরাতে যার তার কাছে চলে যাও’

‘আমি আমার স্বামীর কাছে যাই। যাবো না?’
‘কিন্তু ডিভোর্স হয়ে গেছেতো’
উনার সাথে বিয়েই হয়নি, আবার ডিভোর্স! আমি মানি না ডিভোর্স। সব ষড়যন্ত্র। ঐ মেয়েটার ষড়যন্ত্র’

‘কোন মেয়েটা?’

‘ঐ যে খালাতো বোন, যার সাথে সে রাতে….’ সে থেমে গেলো।

‘থামলে কেনো? বলো, কি হয়েছিলো সে রাতে?’

‘স্যার, আমি কি দেখতে সুন্দর না?’

‘অবশ্যই’

‘তবে কেনো সে এমন করলো..?, আর তিনিই বা কেনো জোর করে আমাকে বিয়ে করলেন না?’

‘তিনি টা, কে?’

‘জানিনা’

‘তোমার হাতে কাটা দাগ কিসের?’, চিকন লম্বা লম্বা কাটা দাগ দেখিয়ে বললাম।

‘কই নাতো’, সে লুকাতে চাইলো।

‘যখন মনে কস্ট হয় তখন কাটো, তাইনা?’

‘জ্বী। স্বামীর কথা মনে হলে কাটি’

‘স্বামীর কথা?’

সে কোন জবাব দেয় না।

‘কলেজে কেনো গিয়েছিলে কাল রাতে?’

‘জানিনা’

‘কলেজের স্যার কে কি ভালো লেগেছিলো?’

‘চুপ করে আছো কেনো বলো? স্যারের কথা মনে হয়?’

‘না এমনি গিয়েছি, আমার কলেজ’, সে চোখ বন্ধ করে বসে রইলো। চোখ বন্ধ করে চোখের জল আটকাতে চাইছে। কিন্তু চোখে যেনো অশ্রুর বান নেমেছে।

‘স্যার সবাই আমাকে কেনো এতো কস্ট দেয়। আমার বুকে অনেক কস্ট, কস্টের আগুন। এ আগুন দিয়ে আমি সব জ্বালিয়ে দিবো….’, আর কিছু বলতে পারলো না। মাথা হেলিয়ে পড়ে গেলো। সতর্ক করা সিস্টার কাছে দাঁড়ানো ছিলো। ধরে ফেললো।

দুই.

‘আচ্ছা আপনার মেয়ের বিয়ের আগের অবস্থা বলুন । বিয়ের আগে কি কোন মানসিক সমস্যা ছিলো?’, মেয়ের বাহিরে পাঠিয়ে তার বাবাকে জিগ্যেস করলাম।

‘না, ডাক্তার ওর তো তেমন কোন সমস্যা ছিলো না। তবে ওর মায়ের মানসিক সমস্যা আছে। ডাক্তার বলেছেন উনার বাই পোলার মোড ডিসওর্ডার। উনি ভালো ঔষধ খান নিয়মিত’

‘মেয়ে কি পুরো স্বাভাবিক ছিলো?’

‘জ্বী। খুব ভালো ছাত্রী ছিলো। পড়াশোনা গান সব কছুতেই প্রথম। তবে একটু রাগি ছিলো। মনের মতো কিছু না হলে খুব রাগ করতো। আমরাও ঘাঁটাতাম না। যা করতে চাইতো, নিতে চাইতো সবই দিতাম। কারন, ঐযে রাগ ছিলো বেশি। আসবাবপত্র সব ভাঙচুর করতো রেগে গেলে’

‘ওর স্বামীর ব্যাপারটা বলুন তো’

‘হ্যা ওরাতো খুব ভালো মানুষ। দেখে শুনে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বিয়ের পর পরই ওর রোগটা দেখা দেয়। ছেলেটিকে না গলা টিপে মেরে ফেলতা চাইছিলো। পারেনি। ছেলের মুখ দিয়ে রক্ত আসতে দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়। ওরা তাকে বেঁধে রাখে। ঐ অবস্থাতেই আমরা নিয়ে আসি। হাসপাতালে ভর্তি করি। এর পর থেকেই তার অসংলগ্ন কথা বার্তা, আচরন। ডাক্তার বলেছেন, বাই পোলার মোড ডিসোওর্ডার। ওর মায়ের মতো। কিন্তু ওর মা তো এরকম না। উনিতো প্রায় স্বাভাবিক’

‘ছেলের কি কোথাও কোন সম্পর্ক টম্পর্ক?’

‘না ডাক্তার সাহেব। কিন্তু ওতো কি একটা বলে প্রায়শ। কিন্তু ছেলের মা উড়িয়ে দিলেন সেসব। বললেন, পাগলে কিনা বলে। আমরাও দেখলাম বেশির ভাগ কথাবার্তাই তো অগোছালো। কি বলতে কি বলে। খালি অশ্লীল কথা। আর আমাকে দু চোখে দেখতে পারেনা। কাল আমাকে টেনিস র‍্যাকেট দিয়ে বাড়ি মেরেছে। বললো টেনিস খেলবে। আমিও গেলাম। পরে, এই যে দেখেল কপাল টা এখনো ফোলা’

‘ওর বাই পোলার মোড ডিসওর্ডার। বিয়ের আগে আদরে আদরে রেখেছেন তাই ওভাবে সিমটম গুলা দেখা যায় নি। কিন্তু বিয়ের পর একের পর এক স্ট্রেস এ তার মোড ডিসওর্ডার সিমটম গুলা চলে এসেছে। ওকে কয়েকটা দিন ভর্তি রাখতে হবে হাসপাতালে। সেটা সবার নিরাপত্তার জন্যে যেমন প্রয়োজন তেমনি ওর সুস্থ হবার জন্যে প্রয়োজন। তবে ঘড়াবেন না মাত্র তিন চারটে দিন’।

‘ডাক্তার সাহেব ওকি ভালো হবে। ওর মায়ের তো তেমন সমস্যা দেখা হয়নি কোনদিন। উনিতো দিব্যি ভালো। সে কেনো এমন?’

‘আপনার স্ত্রীর কোন স্ট্রেস নেই। বাইপোলার কিন্তু আপনি টেক কেয়ার করছেন, তবে আপনার মেয়ের জীবনে কছু স্ট্রেস চলে এসেছে, সেটা বিয়ের পর পর যা সে নিতে পারেনি, বাইপোলার সিমটম দেখা দিয়েছে’

‘ও যে আচরণ করছে, সবাই বলছে আবার বিয়ে দিতে। বিয়ে দিলেই নাকি সমস্যা চলে যাবে। তাছাড়া সেও সব সময় স্বামীর কাছে যাবো, স্বামীর কাছে যাবো বলে চিৎকার করে’, বাবা বললেন।

‘হ্যা তা করে। কিন্তু সে স্বামীর কাছে যাবেনা। দেখুন না গত রাতে সে কিন্তু স্বামীর বাড়ি যায় নি। অবচেতন মনে কলেজে গিয়েছে’

‘ডাক্তার সাহেব সে রাত্রে কলেজে কেনো গেলো বুঝলাম না?’

‘থাক, এ আপনি বুঝবেন না। আপাতত ওকে বিয়ে দিবেন না। খবরদার এ ভুল যনো না হয়। অনেকে আছেন, মানসিক রোগ দেখা দিলে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে জটিলতা বাড়ান’।

ডা. মো. সাঈদ এনাম
সাইকিয়াট্রিস্ট

Related posts

Leave a Comment